You are currently viewing আধুনিক রাজনীতির মৌলিক ধারণাসমূহ Fundamentals of modern politics
Fundamentals of Modern Politics

আধুনিক রাজনীতির মৌলিক ধারণাসমূহ Fundamentals of modern politics

আইন - জাতীয় আইন। আন্তর্জাতিক আইন.
গণতন্ত্রের প্রকারভেদ - (1) প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র।
(2) পরোক্ষভাবে প্রতিনিধি বা গণতন্ত্র। (3) উদার গণতন্ত্র। (4) সমাজতান্ত্রিক গণতন্ত্র।
গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ- (১) গণতন্ত্রের সংকট।
(২) গণতন্ত্রের অপূর্ণতা। (3) গণতন্ত্র গণতন্ত্রের বিকল্প। (4) গণতন্ত্রের অগ্রগতি।
(5) তৃতীয় বিশ্বে গণতন্ত্র।
ন্যায়বিচারের বিভিন্ন রূপ - (1) সামাজিক ন্যায়বিচার (2) রাজনৈতিক ন্যায়বিচার। (3) অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার। (4) আইনি বিচার

আইনের অর্থ –

ব্যাপক এবং সংকীর্ণ—উভয় অর্থেই আইন কথাটির ব্যবহার প্রচলিত আছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আইনের সংজ্ঞা দিয়েছেন।

জন অস্টিনের মতে, আইন হল অধস্তনের প্রতি ঊর্ধ্বর্তন রাষ্ট্রনৈতিক কর্তৃত্বের আদেশমাত্র। বিশ্লেষণপন্থী লেখক হল্যান্ডের মতে,

সার্বভৌম রাষ্ট্রনৈতিক কর্তৃত্ব দ্বারা প্রযুক্ত মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণকারী সাধারণ নিয়মই আইন। স্যাভিনি, হেনরি মেইন,

মেইটল্যান্ড ক্লার্ক প্রমুখ ঐতিহাসিক মতবাদে বিশ্বাসী রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা ইত্যাদি সাধারণভাবে আইনের

মর্যাদা লাভ করে। তাই সব আইনকে সার্বভৌম শক্তির আদেশ বলে অভিহিত করা যুক্তিযুক্ত নয়। বার্কারের অভিমত হল, আইন শুধুমাত্র রাষ্ট্র

কর্তৃক স্বীকৃত, ঘোষিত এবং প্রযুক্ত হলেই চলবে না, তাকে ন্যায়সম্মত ও যুক্তিসংগত হতে হবে। মার্কসীয় মতবাদ অনুযায়ী,

আইন রাষ্ট্রপ্রকৃতির সঙ্গে অভিন্নভাবে জড়িত। আইন শাসকশ্রেণির ইচ্ছাকে প্রতিফলিত করে।

অইনের প্রকৃতি –

আইনের প্রকৃতি সম্পর্কিত মতবাদগুলি হল – [১] দার্শনিক মতবাদ, [২] বিশ্লেষণমূলক মতবাদ, [৩] ঐতিহাসিক মতবাদ,

[৪] তুলনামূলক মতবাদ [৫] সমাজবিজ্ঞানমূলক মতবাদ এবং [৬] মার্কসীয় মতবাদ।

স্বাভাবিক বা প্রাকৃতিক আইন –

আইনের আলোচনায় স্বাভাবিক বা প্রাকৃতিক আইন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে। স্বাভাবিক আইন মানুষের তৈরি নয়,

রাষ্ট্র কর্তৃক সৃষ্ট বা সংরক্ষিতও নয়, স্বাভাবিক আইন সামাজিক প্রয়োজন থেকে নিজেই গড়ে ওঠে।

প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক প্লেটো ও অ্যারিস্টলের রচনায় এর প্রথম উল্লেখ দেখা যায়।

স্টোয়িক দর্শনে স্বাভাবিক আইনের তত্ত্বটি আরও স্পষ্ট রূপ নেয়। স্টোয়িকদের মতে, স্বাভাবিক আইন মান্য, কেননা তা মুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।

বোঁদা, হস, লক্, রুশো প্রমুখ দার্শনিকরা ছিলেন স্বাভাবিক আইনের সমর্থক।

Law – National law. International law. bnginfo.com

জাতীয় আইন –

সংজ্ঞা : জাতীয় আইন বলতে বোঝায় সেই আইন যা রাষ্ট্র কর্তৃক সৃষ্ট ও স্বীকৃত।

প্রকৃতি : জাতীয় আইনের সুনির্দিষ্ট প্রকৃতি লক্ষ করা যায়।

উৎস : জাতীয় আইনের উৎস হল জাতীয় রাষ্ট্র বা জাতীয় রাষ্ট্রের আইনসভা।

বৈধতা : রাষ্ট্রে জাতীয় আইন বলবৎ হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকে না।

সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের অবস্থান : জাতীয় আইন জাতীয় রাষ্ট্রের সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের আদেশ হিসেবে বলবৎ হয়।

আইন ভঙ্গকারীকে শাস্তিপ্রদান : জাতীয় আইনভঙ্গকারীকে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা রাষ্ট্রের হাতে রয়েছে।

আন্তর্জাতিক আইন –

সংজ্ঞা : আন্তর্জাতিক আইন হল কিছু আন্তর্জাতিক প্রথা, রীতিনীতি ও নিয়মকানুনের সমষ্টি। পারস্পরিক সম্পর্ক রচনার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রগুলি এগুলির বাধ্যতা মেনে চলে।

প্রকৃতি : আন্তর্জাতিক আইন সুনির্দিষ্ট নয়।

উৎস : আন্তর্জাতিক আইনের ক্ষেত্রে কোনো আন্তর্জাতিক আইনসভা দেখা যায় না।

বৈধতা : আন্তর্জাতিক আইনের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, আন্তর্জাতিক আইন সরাসরি বলবৎ হয় না।

সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের অবস্থান : আন্তর্জাতিক আইনের ক্ষেত্রে কোনো সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না।

আইন ভঙ্গকারীকে শাস্তিপ্রদান : আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ব্যাপারে রাষ্ট্রগুলির কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

আন্তর্জাতিক আইন –

আধুনিক জাতীয় রাষ্ট্রগুলি অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে পরস্পর নির্ভরশীল। কিছু নিয়মকানুনের মাধ্যমে এই পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারিত হয়,

এগুলিই আন্তর্জাতিক আইন নামে অভিহিত। লরেন্সের মতে, সাধারণভাবে যেসব নিয়মকানুনের দ্বারা সভ্য রাষ্ট্রগুলির পারস্পরিক ব্যবহার

নিয়ন্ত্রিত হয় সেগু লিকে আন্তর্জাতিক আইন বলে।

আন্তর্জাতিক আইনের অর্থ ও প্রকৃতি –

অস্টিন, হল্যান্ড প্রমুখ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আন্তর্জাতিক আইনকে আইন পদবাচ্য বলে স্বীকার করেননি। অন্যদিকে, হেনরি মেইন, স্যাভিনি প্রমুখ আন্তর্জাতিক আইনকে আইন পদবাচ্য মনে করেন। 

[১] আইন পদবাচ্য নয়: আন্তর্জাতিক আইনকে আইন পদবাচ্য মনে না করার পক্ষে কারণগুলি হল—–(i) সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের অনস্তিত্ব,

(ii) সুনির্দিষ্ট উৎসের অভাব (iii) বৈধতা আংশিক ও অসম্পূর্ণ, (iii) জাতীয় আইনের তুলনায় গুরুত্বহীন,

(iv) আইনের ব্যাখ্যাকর্তা হিসেবে বিচার বিভাগের অনস্তিত্ব।

[২] আইন পদবাচ্য: ওপেনহাইমার, পোলক, কেলসেন, লরেন্স প্রমুখ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আন্তর্জাতিক আইনকে আইনের স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে

যে যুক্তিগুলি দিয়েছেন—(i) সদস্যরাষ্ট্রের স্বীকৃতিনির্ভর রাষ্ট্রগুলির পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণে আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োজন।

(ii) উৎসগত দিক থেকে অভিন্ন, (iii) সমস্ত রাষ্ট্রের আনুগত্য, (iv) আইন লঙ্ঘনের দোহাই যুক্তিহীন, (v) বিশ্বজনমতের সমর্থন।

গণতন্ত্রের সংজ্ঞা – মার্কিন রাষ্ট্রপতি আব্রাহাম লিংকনের মতে গণতন্ত্র হল জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য জনগণের শাসন

(Government of the people by the people and for the people)। সুইজি ও অন্যান্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর মতে, লিংকনের দেওয়া

সংজ্ঞা অনুসারে জনগণের শাসন বলতে বোঝায় যে, জনগণ হল সমগ্র শাসনব্যবস্থার মূল উৎস এবং জনগণ ও সরকার পরস্পর বিচ্ছিন্ন নয়।

অন্যদিকে, জনগণের দ্বারা শাসন বলতে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়।

জনগণের জন্য শাসন এর অর্থ হল গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা আপামর জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করবে।

গণতন্ত্রের অর্থ –

প্রাচীন গ্রিসে খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে ‘গণতন্ত্র’ শব্দটির প্রথম প্রয়োগ ঘটে। ‘ডিমোস এবং ‘ক্রেটোস’—দুটি গ্রিক শব্দ নিয়ে ‘ডেমোক্রেসি’

শব্দের সৃষ্টি হয়। ‘ডিমোস’ শব্দটির অর্থ ‘জনগণ’ আর ‘ক্রেটোস’ শব্দটির অর্থ কর্তৃত্ব বা শাসন।

এককথায়, গণতন্ত্র শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হল জনগণের শাসন।

সাধারণভাবে ‘গণতন্ত্র’ শব্দটি ‘সংকীর্ণ’ ও ‘ব্যাপক’ উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। ব্যাপক অর্থে গণতন্ত্র বলতে এমন এক আদর্শ সমাজব্যবস্থাকে

বোঝায় যেখানে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক—প্রতিটি ক্ষেত্রেই সমতা প্রতিষ্ঠা লাভ করে। অন্যদিকে,

সংকীর্ণ অর্থে গণতন্ত্র বলতে বোঝায়, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা বা গণতান্ত্রিক সরকার।

মার্কসবাদী রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা মনে করেন যে, সমাজব্যবস্থায় ধনবৈষম্য বিরাজ করছে সেখানে কখনও প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।

ল্যাস্কির বক্তব্য হল, অর্থনৈতিক গণতন্ত্র ব্যতীত রাজনৈতিক গণতন্ত্র অর্থহীন।

Types of democracy. bnginfo.com

গণতন্ত্রের প্রকারভেদ –

গঠনগত বা পরিচালনগত দিক থেকে সাধারণভাবে গণতন্ত্রকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। সেগুলি হল— [১] প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র এবং

[২] পরোক্ষ গণতন্ত্র। তা ছাড়া তত্ত্বগত বা শ্রেণিগত দিক থেকেও গণতন্ত্রকে [৩] উদারনৈতিক গণতন্ত্র এবং [৪] সমাজতান্ত্রিক

গণতন্ত্র—এই দু-ভাগে ভাগ করা যায়।

(১) প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র : যে শাসনব্যবস্থায় জনগণ সরাসরি এবং সক্রিয়ভাবে শাসনকার্য পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে তাকে প্রত্যক্ষগণতন্ত্র বলে।

i. প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণসমূহ : পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সংস্থান রাখা হয়েছে। 

সেই পদ্ধতিগুলি হল— ১.গণভোট, ২.গণ উদ্যোগ, ৩.গণ-অভিমত, ৪.পদচ্যুতি।

ii. প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের গুণাগুণ : প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের যেমন কিছু গুণ বা সুবিধা রয়েছে, তেমনি বেশ কিছু দোষ বা অসুবিধা রয়েছে।

গুণ বা সুবিধা : ১.রাজনৈতিক চেতনা বৃদ্ধি, ২.জনস্বার্থবিরোধী পদক্ষেপ প্রতিরোধ, ৩.গণতান্ত্রিক নীতির বাস্তবায়নে সহায়তা,

৪.জনস্বার্থ রক্ষা, ৫.স্বৈরাচার রোধ।

দোষ বা অসুবিধা : ১.জনবহুল রাষ্ট্রের পক্ষে অকার্যকরী, ২.রাজনৈতিক জ্ঞানের অভাবে ব্যর্থতা, ৩.সুষ্ঠুভাবে আইন প্রণয়ন অসম্ভব,

৪.জরুরি অবস্থায় অকার্যকর, ৫.গণতান্ত্রিক আদর্শের পরিপন্থী, ৬.জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বশীলতা হ্রাস।

(২) পরোক্ষ প্রতিনিধিত্বমূলক বা গণতন্ত্র : পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র বলতে সেই গণতন্ত্রকে বোঝায় যেখানে জনগণ

তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে দেশশাসনের কাজে অংশগ্রহণ করে।

পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য : পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের উল্লেখযোগ্য।

বৈশিষ্ট্যগুলি হল— ১.জনগণের পরোক্ষ অংশগ্রহণ, ২.রাষ্ট্রপতিশাসিত অথবা মন্ত্রীপরিষদ-চালিত শাসনব্যবস্থা, ৩.সংখ্যাগরিষ্ঠের সরকার,

৪.প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকার, ৫.জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা, ৬.একাধিক দলের উপস্থিতি, ৭.গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা।

(৩) উদারনৈতিক গণতন্ত্র : শাসনব্যবস্থায় জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাবসাবাণিজ্যের

অবাধ স্বাধীনতা, ব্যক্তির মর্যাদা ও স্বাধীনতার অধিকারের গুরুত্ব, সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠা, আইনের অনুশাসন প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতার স্বীকৃতি,

নির্বাচন ও নির্বাচিত হওয়ার অধিকার প্রভৃতি নীতি রূপায়ণ এই প্রকার গণতন্ত্রের লক্ষ্য।

(৪) সমাজতান্ত্রিক গণতন্ত্র : মার্কসবাদ ও লেনিনবাদের ওপর ভিত্তি করে সমাজতান্ত্রিক গণতন্ত্রের উদ্ভব ঘটে। একে ‘বৈপ্লবিক

গণতন্ত্র’ বা ‘প্রকৃত গণতন্ত্র” নামেও অভিহিত হয়।

একনায়কতন্ত্রের সংজ্ঞা –

নিউম্যানের দেওয়া সংজ্ঞা অনুযায়ী, দেশের সমগ্র প্রশাসন এক বা একাধিক ব্যক্তি দখল করে অপ্রতিহত স্বৈরাচারী ক্ষমতা প্রয়োগ করলে

তাকে একনায়কতন্ত্র বলা হয়। অস্টিন রেনির মতে, একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় প্রশাসনের চূড়ান্ত ক্ষমতা এক বা একাধিক ব্যক্তির

হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে। ফোর্ডের অভিমত অনুসারে, একনায়কতন্ত্র হল রাষ্ট্রপ্রধান কর্তৃক বিধিবহির্ভূত ক্ষমতার অধিগ্রহণ।

বস্তুত যে শাসনব্যবস্থায় যাবতীয় সরকারি ক্ষমতা কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টির হাতে থাকে তাকে একনায়কতন্ত্র অ্যাখ্যা দেওয়া হয়।

বিভিন্ন প্রকারের একনায়কতন্ত্র –

একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার প্রধানত তিনটি রূপ দেখা যায়। সেগুলি হল – [১] ব্যক্তিগত একনায়কতন্ত্র, [২] দলগত একনায়কতন্ত্র এবং

[৩] সামরিক একনায়কতন্ত্র।

The future of democracy. bnginfo.com

গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ –

রাষ্ট্রচিন্তায় আদর্শ শাসনব্যবস্থা হিসেবে গণতন্ত্রের স্থান সবার ওপরে।

(১) গণতন্ত্রের সংকট : রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, বিংশ শতাব্দীতে গণতান্ত্রিক ধ্যানধারণার পূর্ণ বিকাশ ঘটে। আধুনিক যুগকে এই কারণে গণতন্ত্রের

যুগ বলে অভিহিত করা হয়। অবশ্য বিংশ শতাব্দীতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে গণতন্ত্র এক ভয়ংকর সংকটের মুখোমুখি হলে জার্মানি ও ইতালির

দুই রাষ্ট্রনায়ক যথাক্রমে হিটলার ও মুসোলিনি গণতান্ত্রিক আদর্শকে ধ্বংস করার জন্য নাৎসিবাদী ও ফ্যাসিবাদী একনায়কতন্ত্র প্রবর্তন করেন।

(২) গণতন্ত্রের অপূর্ণতা : অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রচলিত রাজনৈতিক ও সামাজিক সীম্য অর্থহীন হয়ে পড়েছে।

রাষ্ট্রীয় সম্পদ এখানে মুষ্টিমেয় ধনী ব্যক্তির করায়ত্ত।

(৩) গণতন্ত্রের বিকল্প গণতন্ত্রই : জনগণের শাসন হিসেবে গণতন্ত্রের কি কোনো বিকল্প আছে তা নিয়ে যথেষ্ট বিরোধ আছে।

অনেকে বলেন গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বাস হারানো জনগণের প্রতি বিশ্বাস হারানোর সমার্থক।

(৪) গণতন্ত্রের অগ্রগতি : বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় কাজকর্মে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নাগরিক বা

পুর সমাজের (Civil Society) কাজকর্ম বেড়ে চলেছে। গণতান্ত্রিক অধিকার সংরক্ষণে নাগরিক সচেতনতা অধিকতর মাত্রায় সম্প্রসারিত হচ্ছে।

(৫) তৃতীয় বিশ্বে গণতন্ত্র : উন্নত দুনিয়ার গণতান্ত্রিক দেশগুলির সমস্যা এবং উন্নয়নশীল দুনিয়ার গণতান্ত্রিক দেশগুলির সমস্যা এক নয়।

বিশ্বের প্রাচীনতম গণতান্ত্রিক দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতবর্ষের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে এক করা যায় না।

তবুও এ কথা বলা যায় যে, জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ে গণ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণে গণতান্ত্রিক পরিবেশের কোনো বিকল্প নেই।

আইনের উৎস – রাষ্ট্রের মতো আইনও ঐতিহাসিক বিবর্তনের ফল। বিশিষ্ট আইনবিদ হল্যান্ড-এর মতে, আইনের মুখ্য উৎসগুলি

হল—প্রথা, ধর্ম, বিচারালয়ের রায়, ন্যায়বিচার, বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা ও আইনসভা প্রণীত আইন।

সাম্য ও ন্যায়ের সম্পর্ক – সাম্য ও ন্যায়ের সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাম্য প্রতিষ্ঠার একটি অন্যতম শর্ত হল ন্যায়বিচার।

ন্যায়নীতিতে এ কথা বলা হয় যে, সব মানুষ সমান।

ন্যায়বিচারের বিভিন্ন ৰূপ – প্রাচীন গ্রিসে দার্শনিকদের রচনায় প্রথম ন্যায়বিচারের ধারণার সন্ধান পাওয়া যায়। প্লেটোর The Republic গ্রন্থে ন্যায়বিচারের উল্লেখ রয়েছে।

ন্যায়বিচারের রূপকে ক্ষেত্র অনুযায়ী চার ভাগে ভাগ করা। হয় – [১] সামাজিক, [২] রাজনৈতিক [৩] অর্থনৈতিক এবং [৪] আইনগত ন্যায়বিচার।

(১) সামাজিক ন্যায়বিচার : সামাজিক ন্যায়ের ধারণা অনুসারে, জনগণের সর্বাঙ্গীণ কল্যাশসাধনের উদ্দেশ্যে একটি ন্যায়সংগত সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়।

(২) রাজনৈতিক ন্যায়বিচার : সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের মানবাধিকার সংক্রান্ত ঘোষণায় (১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দ) রাজনৈতিক ন্যায় ও সাম্যের কথা

উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণভাবে রাজনৈতিক ন্যায় বলতে দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় জনগণের সার্বিক অংশগ্রহণকে বোঝায়।

(৩) অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার : অর্থনৈতিক ন্যায় সামাজিক ন্যায়প্রতিষ্ঠা অর্থহীন। উদারনীতিবিদরা অর্থনৈতিক ন্যায় ছাড়া বলতে রাষ্ট্র

কর্তৃক জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম রূপায়ণ, গতিশীল করব্যবস্থার মাধ্যমে ধনবৈষম্য হ্রাস, উন্মুক্ত বাজার অর্থনীতি, অবাধ প্রতিযোগিতা

প্রভৃতিকে বুঝিয়েছেন। অন্যদিকে, মার্কসীয় দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে, অর্থনৈতিক ন্যায় বলতে সমস্ত রকম ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও মালিকানার

বিলোপ ঘটিয়ে উৎপাদনের উপকরণের ওপর সামাজিক মালিকানা প্রতিষ্ঠাকে বোঝায়।

(৪) আইনগত ন্যায়বিচার : আইনগত ন্যায়ের ধারণা অনুসারে, দেশের জন্য যুক্তিসংগত আইন প্রণয়নের প্রয়োজন।

স্বাধীনতার সংজ্ঞা – 

স্বাধীনতা বা ‘Liberty’ শব্দটি লাতিন শব্দ ‘Liber’ থেকে গৃহীত হয়েছে। ‘Liber’ শব্দের অর্থ হল স্বাধীনতা। সাধারণভাবে স্বাধীনতা বলতে নিজের ইচ্ছামতো কাজ করার অবাধ অধিকারকে বোঝালেও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বস্তুত অবাধ, অনিয়ন্ত্রিত ও সীমাহীন স্বাধীনতা হল স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তরমাত্র।

স্বাধীনতার প্রকৃতি – রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোচনায় স্বাধীনতার প্রকৃতিকে তিনটি দিক থেকে বিশ্লেষণ করা হয়ে থাকে।

(১) নেতিবাচক স্বাধীনতা : নেতিবাচক স্বাধীনতার প্রবক্তা হলেন জেরেমি বেন্থাম, অ্যাডাম স্মিথ, জন স্টুয়ার্ট মিল, হার্বার্ট স্পেনসার, হস, লক্ প্রমুখ।

এ ছাড়া রয়েছেন বারলিন, হায়েক ও নোজিকের মতো একালের নয়া উদারনীতিবাদী তাত্ত্বিকরা।

(২) ইতিবাচক স্বাধীনতা : স্বাধীনতার ইতিবাচক প্রকৃতির বিশ্লেষণকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন হেগেল, গ্রিন, হবহাউস, ল্যাঙ্কি, বার্কার প্রমুখ।

(৩) মার্কসীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে স্বাধীনতা : স্বাধীনতার নেতিবাচক, অর্থাৎ ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী ধারণার বিরোধিতা করে মার্কসীয় মতবাদে বলা হয়,

সমস্ত রকম আর্থিক শোষণের অবসান না ঘটলে মানুষের সামাজিক মুক্তি ঘটা সম্ভব নয়। একমাত্র পুঁজিবাদী শোষণব্যবস্থার অবসান ঘটলেই প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক –

বার্কার প্রমুখ রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর মতে, স্বাধীনতার পরিবেশ রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টা ছাড়া গড়ে ওঠে না। নাগরিকরা যে স্বাধীনতা ভোগ করে, রাষ্ট্র তা আইনের মাধ্যমে কার্যকর করে।

অবশ্য রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের নেতিবাচক ভূমিকার কথাও জন স্টুয়ার্ট মিল, স্পেনসার, ব্রাইস প্রমুখ উল্লেখ করেছেন। ব্রাইসের অভিমত হল,

আইন এবং স্বাধীনতার মধ্যে যে কোনো একটিকে প্রাধান্য দিলে অন্যটি সংকুচিত হবে। বার্কারের বক্তব্য হল, স্বাধীনতার উৎস হল আইন।

সাম্যের প্রকৃতি –

অধ্যাপক হ্যারল্ড ল্যাক্তিষ্ক সাম্যের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তার দুটি মূল বৈশিষ্ট্যের কথা তুলে ধরেছেন – [১] সাম্য হল বিশেষ সুযোগসুবিধার অনুপস্থিতি, [২] সাম্য বলতে সকলের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগসুবিধা সুনিশ্চিত করাকে বোঝায়।

মার্কসীয় দৃষ্টিভলিতে সাম্য : মার্কসীয় দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে, ধনবৈষম্যমূলক ও শ্রেণিবিভক্ত সমাজে প্রকৃত সাম্যের অস্তিত্ব কখনোই সম্ভব নয়। ব্যক্তিগত সম্পত্তির বিলোপ না ঘটলে সাম্য প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। লেনিনের মতে, এক শ্রেণির দ্বারা অন্য শ্রেপিকে শোষণের সমস্ত রকম সম্ভাবনা যতক্ষণ না বিনষ্ট হচ্ছে ততক্ষণ কোনো প্রকৃত বা বিশুদ্ধ সাম্য প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।

উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্বাধীনতা ও সাম্যের প্রকৃতি – বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় স্বাধীনতা ও সাম্যের প্রকৃতির তারতম্য ঘটে।

(১) স্বাধীনতার প্রকৃতি : উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও চিন্তার স্বাধীনতাকে দুটি মূলনীতিরূপে গ্রহণ করা হয়।

স্বাধীনতার ওপর সবরকম সরকারি বিধিনিষেধ ও নিয়ন্ত্রণ নিষিদ্ধ থাকে।

(২) সায্যের প্রকৃতি : উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্বাধীনতার মতো সামাজিক ও রাজনৈতিক সাম্যের আদর্শ প্রতিষ্ঠার কথা ঘোষণা করা হয়।

বিভিন্ন সমাজব্যবস্থায় সাম্যের প্রকৃতি – বিভিন্ন সমাজব্যবস্থায় সাম্যের প্রকৃতিকে এইভাবে ব্যাখ্যা করা যায়—

(১) আদিম সাম্যবাদী সমাজে সাম্য : আদিম সাম্যবাদী সমাজের সাম্যও সেই সমাজের অর্থনীতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হত।

(২) দাস সমাজে সাম্য : দাস সমাজে ব্যক্তিগত সম্পত্তির উদ্ভব হয়। যাদের হাতে সম্পত্তির মালিকানা কেন্দ্রীভূত হয় তারা দাস মালিক হিসেবে পরিগণিত হয়।

(৩) সামন্ত সমাজে সাম্য : সামন্ত সমাজে যাবতীয় আইন সামন্তপ্রভুদের স্বার্থরক্ষার জন্য প্রণীত হয়।

(৪) ধনতান্ত্রিক সমাজে সাম্য : ধনতান্ত্রিক সমাজে সামাজিক ও রাজনৈতিক সাম্যকে স্বীকার করা হয়।

(৫) সমাজতান্ত্রিক সমাজে সাম্য : সমাজতান্ত্রিক সমাজে সাম্যের ধারণা ঠিক ধনতান্ত্রিক সমাজের বিপরীত। এরূপ সমাজে অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর সমূহ :-

Fundamentals of modern politics. bnginfo.com

নৈতিক আইন কাকে বলে ?

উ. সমাজজীবনে ন্যায়নীতি, সদাচার প্রভৃতি প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষের মানসিক আচার-আচরণের সঙ্গে সামাজিক উদ্দেশ্যের সমন্বয়সাধনের প্রয়োজনে সৃষ্ট নিয়মকানুনকে নৈতিক আইন বলা হয়।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানে আইন বলতে কী বোঝায় ?

উ. মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণকারী, সার্বভৌম শক্তি সমর্থিত ও প্রযুক্ত নিয়মকানুনকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে আইন বলে।

সামাজিক আইন কাকে বলে ?

উ. সমাজবদ্ধ জীব হিসেবে সুন্দর জীবন প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে মানুষকে যেসব সামাজিক বাধানিষেধ মেনে চলতে হয়, সেগুলিকে সামাজিক আইন বলে।

ব্যাপক অর্থে আইন বলতে কী বোঝায় ?

উ. ব্যাপক অর্থে আইন বলতে সামাজিক আইন, নৈতিক আইন, ধর্মীয় আইন, প্রাকৃতিক আইন প্রভৃতিকে বোঝায়।

আন্তর্জাতিক আইনকে কী কী ভাগে ভাগ করা যায় ?

উ. আন্তর্জাতিক আইনকে দু-ভাগে ভাগ করা যায় সরকারি আন্তর্জাতিক আইন ও বেসরকারি আন্তর্জাতিক আইন।

সরকারি আন্তর্জাতিক আইন কী কী ভাগে বিভক্ত ?

উ. সরকারি আন্তর্জাতিক আইন তিন ভাগে বিভক্ত—শান্তি সংক্রান্ত আইন, জাতি সংক্রান্ত আইন ও নিরপেক্ষতা সংক্রান্ত আইন।

রাষ্ট্রীয় আইনকে কী কী ভাগে ভাগ করা যায় ?

উ. রাষ্ট্রীয় আইনকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায় সরকারি আইন সামাজিক আইন ও ফৌজদারি আইন।

আন্তর্জাতিক আইনকে আইন বলে কারা স্বীকার করেন না ?

উ. হস, বার্কার, হল্যান্ড প্রমুখ রাষ্ট্রনীতিবিদগণ আন্তর্জাতিক আইনকে অহিন বলে স্বীকার করেন না।

আন্তর্জাতিক আইনের সংজ্ঞাগুলিকে প্রধানত কী কী ভাগে ভাগ করা যায় ?

উ. আন্তর্জাতিক আইনের সংজ্ঞাগুলিকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়—সনাতন সংজ্ঞা, সর্বাধুনিক সংজ্ঞা ও মার্কসীয় সংজ্ঞা।

আন্তর্জাতিক আইনকে কারা আইন বলে স্বীকার করেন ?

উ. ওপেনহাইমার, ব্রিয়ারলি, পোলক প্রমুখ রাষ্ট্রনীতিবিদগণ আন্তর্জাতিক আইনকে আইন বলে স্বীকার করেন।

ফৌজদারি আইনের উদ্দেশ্য কী ?

উ. ফৌজদারি আইনের উদ্দেশ্য হল আইনশৃঙ্খলার প্রতিষ্ঠা, নাগরিক জীবনে নিরাপত্তা প্রদান ও অপরাধীদের দণ্ডাজ্ঞা প্রদান।

মার্কসবাদীদের মতে রাষ্ট্রীয় আইন কীসের অন্তর্ভুক্ত ?

উ. মার্কসবাদীদের মতে রাষ্ট্রীয় আইন উপরিকাঠামোর অন্তর্ভুক্ত।

আইনের অনুশাসন বলতে কী বোঝায় ?

উ. আইনের অনুশাসনের অর্থ হল আইনের চোখে সবাই সমান।

কেন্ট কোন দেশের আইনবিদ ?

উ. কেন্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনবিদ।

আইনের একটি উৎসের উল্লেখ করো।

উ. আইনের একটি উৎস হল বিচারালয়ের রায়।

বেসরকারি আইন বলতে কী বোঝায় ?

উ. রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযুক্ত নয়, এমন আইনকে বেসরকারি আইন বলে।

প্রশাসনিক আইন কাকে বলে ?

উ. প্রশাসনিক আইন বলতে কতকগুলি নিয়মকানুনকে বোঝায় যেগুলি নাগরিকদের সঙ্গে প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সম্পর্ককে নিয়ন্ত্রণ করে।

‘সনাতন সংজ্ঞা’ অনুসারে আন্তর্জাতিক আইন কাকে বলে ?

উ. সনাতন সংজ্ঞা অনুসারে আন্তর্জাতিক অহিন হল, সেইসব আন্তর্জাতিক নিয়ম, রীতিনীতি ও প্রথার সমষ্টি, যেগুলি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রসমূহের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে।

ফৌজদারি আইন বলতে কী বোঝায় ?

উ. সমাজে আইনশৃঙ্খলার প্রতিষ্ঠা, নাগরিক জীবনে নিরাপত্তা প্রদান ও অপরাধীদের দণ্ডাজ্ঞা দেওয়ার জন্য যে আইন প্রণীত হয়, সেগুলিকে ফৌজদারি অহিন বলে।

‘আন্তর্জাতিক আইন’ কথাটি প্রথম কত সালে প্রযুক্ত হয় ?

উ. ১৭৮০ সালে ‘আন্তর্জাতিক আইন’ কথাটির প্রথম প্রয়োগ ঘটে।

আইনগত স্বাধীনতা কাকে বলে ?

উ. রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত, সংরক্ষিত ও নিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতাকেই আইনগত স্বাধীনতা বলে।

অর্থনৈতিক স্বাধীনতা কাকে বলে ?

উ. অভাব-অনটন ও দারিদ্র্যের হাত থেকে মুক্তিলাভের অধিকারকে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বলে।

ব্যক্তিগত বা পৌরস্বাধীনতা কাকে বলে ?

উ. ব্যক্তিগত বা পৌরস্বাধীনতা বলতে সেইসব অধিকার ভোগকে বোঝায় যার দ্বারা ব্যক্তি তার ব্যক্তিসত্তার পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হয়।

স্বাভাবিক স্বাধীনতা কাকে বলা হয়েছে ?

উ. প্রাক্‌-রাজনৈতিক যুগে প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে বসবাসকারী মানুষ যথেচ্ছাচরণের যে অবাধ ক্ষমতা ভোগ করত, তাকে স্বাভাবিক স্বাধীনতা বলা হয়।

সি ডি বার্নস জাতীয় স্বাধীনতাকে কী বলে বর্ণনা করেছেন ?

উ. সি ডি বার্নস জাতীয় স্বাধীনতাকে জাতির সর্বপ্রকার স্বাভাবিক উন্নতির ভিত্তি বলে বর্ণনা করেছেন।

সামাজিক স্বাধীনতা কাকে বলে ?

উ. সমাজের বিবেক কর্তৃক স্বীকৃত এবং সামাজিক বিধি কর্তৃক সংরক্ষিত ও নিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতাই সামাজিক স্বাধীনতা।

স্বাধীনতার রক্ষাকবচ কাকে বলে ?

উ. ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য যে কতকগুলি বিশেষ ব্যবস্থা অবলম্বন করা হয়, সেই ব্যবস্থাগুলিকেই স্বাধীনতার রক্ষাকবচ বলা হয়।

স্বাধীনতার রক্ষাকবচের কেন প্রয়োজন ?

উ.রক্ষাকবচ ছাড়া শাসকশ্রেণির হস্তক্ষেপের ফলে স্বাধীনতা ব্যক্তির কাছে অর্থহীন হয়ে পড়ে।

স্বাভাবিক সাম্যের কথা কোন্ কোন্ দার্শনিক প্রচার করেছেন ?

উ. সিসেরো, পলিবিয়াস, রুশো প্রমুখ দার্শনিক স্বাভাবিক সাম্যের কথা প্রচার করেছেন।

দার্শনিক অ্যারিস্টট্ল কী কী ধরনের ন্যায়ের কথা বলেছেন ?

উ. অ্যারিস্টই বর্ণমূলক, সংশোধনমূলক ও বিনিময় সংক্রান্ত ন্যায়ের কথা বলেছেন।

ডাইসি আইনের অনুশাসন বলতে কী বুঝিয়েছেন ?

উ. ডাইসি আইনের অনুশাসন বলতে আইনের প্রাধান্য ও আইনের চোখে সমতাকে বুঝিয়েছেন।

স্বাধীনতার নেতিবাচক সংজ্ঞা দাও।

উ. নেতিবাচক দিক থেকে স্বাধীনতার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলা হয়, স্বাধীনতার অর্থ হল সমস্তরকম নিয়ন্ত্রণের অপসারণ এবং ব্যক্তির স্বাধীন আচরণের স্বীকৃতি।

মার্কসবাদী ধারণা অনুযায়ী সমাজে কীভাবে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয় ?

উ. মার্কসবাদী ধারণা অনুযায়ী উৎপাদনের উপকরণ এবং বিনিময় ও বন্টনের ওপর সামাজিক মালিকানা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয়।

অ্যাডাম স্মিথ প্রমুখ স্বাধীনতা বলতে কীসের অনুপস্থিতিকে বোঝাতে চেয়েছেন ?

উ. অ্যাডাম স্মিথ প্রমুখ স্বাধীনতা বলতে সর্বপ্রকার বাধানিষেধের অনুপস্থিতিকে বোঝাতে চেয়েছেন।

স্বাধীনতার রক্ষাকবচ হিসেবে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের পক্ষে লাস্কি কী বলেছেন ?

উ. স্বাধীনতার রক্ষাকবচ হিসেবে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের পক্ষে ল্যাঙ্কি বলেছেন, যে রাষ্ট্রে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে অতিমাত্রায় ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকে, সেখানে কখনোই স্বাধীনতা থাকতে পারে না।

পূর্ণ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ কাম্য বলে বিবেচিত না হলেও কোন্ স্বাতন্ত্র্য একান্ত প্রয়োজন ?

উ. পূর্ণ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ কাম্য বলে বিবেচিত না হলেও বিচারবিভাগীয় স্বাতন্ত্র্য একান্ত প্রয়োজন।

স্বাধীনতা বলতে মার্কসবাদীরা কীসের পরিপূর্ণ বিকাশের কথা বলেছেন ?

উ. স্বাধীনতা বলতে মার্কসবাদীরা মানুষের সামর্থ্য ও যোগ্যতার পরিপূর্ণ বিকাশের কথা বলেছেন।

পূর্ণ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ কাম্য বলে বিবেচিত না হলেও কোন্ স্বাতন্ত্র্য একান্ত প্রয়োজন ?

উ. পূর্ণ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ কাম্য বলে বিবেচিত না হলেও বিচারবিভাগীয় স্বাতন্ত্র্য একান্ত প্রয়োজন।

ডাইসি আইনের অনুশাসন বলতে কী বুঝিয়েছেন ?

উ. ডাইসি আইনের অনুশাসন বলতে আইনের প্রাধান্য ও আইনের চোখে সমতাকে বুঝিয়েছেন।

আইনগত সাম্যকে কী কী ভাগে ভাগ করা যায় ?

উ. আইনগত সাম্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায় ব্যক্তিগত সাম্য, রাজনৈতিক সাম্য ও অর্থনৈতিক সাম্য।

ল্যাস্কি সাম্য বলতে কী বুঝিয়েছেন ?

উ. ল্যাঙ্কি সাম্য বলতে বিশেষ সুযোগসুবিধার অনুপস্থিতি ও সকলকে পর্যাপ্ত সুযোগসুবিধা প্রদানের কথা বুঝিয়েছেন।

স্বাধীনতার নেতিবাচক সংজ্ঞা দাও।

উ. নেতিবাচক দিক থেকে স্বাধীনতার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলা হয়, স্বাধীনতার অর্থ হল সমস্তরকম নিয়ন্ত্রণের অপসারণ এবং ব্যক্তির স্বাধীন আচরণের স্বীকৃতি।

‘ন্যায়’ শব্দটি কোন্ কোন্ শব্দ থেকে উদ্ভূত হয়েছে ?

উ. লাতিন শব্দ ‘জাস্টাস্’ ও ‘জাস্টিসিয়া থেকে ন্যায় শব্দটি উদ্ধৃত হয়েছে।

আইনগত সাম্য বলতে কী বোঝায় ?

উ. আইনগত সাম্য বলতে আইনের দৃষ্টিতে সাম্য এবং আইন কর্তৃক সমভাবে সংরক্ষিত হওয়ার অধিকারকে বোঝায়।

মার্কসবাদীদের দৃষ্টিতে সাম্য কী ?

উ. মার্কসবাদীদের মতে, সমাজব্যবস্থা থেকে প্রেগিবিভাগের লোপ পাওয়াকে সাম্য বলা হয়।

নেতিবাচক অর্থে সাম্য বলতে কী বোঝায় ?

উ. নেতিবাচক অর্থে সাম্য বলতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, সম্পত্তি, লিঙ্গ প্রভৃতির ভিত্তিতে কোনোরকম বৈষম্য না করাকে বোঝায়।

অর্থনৈতিক সাম্য বলতে কী বোঝায় ?

উ. জাতি-ধর্ম-বর্ণ-স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্য পর্যাপ্ত অর্থনৈতিক সুযোগসুবিধা প্রদানকে অর্থনৈতিক সাম্য বলে।

কে ন্যায়কে একটি ‘দুমুখো ধারণা’ বলেছেন ?

উ. র‍্যাফেল ন্যায়কে ‘একটি দুমুখো ধারণা’ বলেছেন।

ব্যাপক অর্থে গণতন্ত্র বলতে কী বোঝায় ?

উ. ব্যাপক অর্থে গণতন্ত্র হল এমন এক সমাজব্যবস্থা যেখানে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক প্রভৃতি সর্বক্ষেত্রেই সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র কোন্ কোন্ দেশে লক্ষ করা যায় ?

উ. সুইটজারল্যান্ডের কয়েকটি ক্যান্টনে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র লক্ষ করা যায়।

কার্লাইল গণতন্ত্রকে কী বলে অভিহিত করেছেন ?

উ. কার্লাহলের মতে, গণতন্ত্র হল মূর্খদের জন্য এবং মূর্খদের দ্বারা পরিচালিত শাসনপদ্ধতি।

‘গণতন্ত্র’ শব্দটির প্রথম প্রয়োগ দেখা যায় কত শতাব্দীতে ?

উ. খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে ‘গণতন্ত্র’ শব্দটির প্রথম প্রয়োগ দেখা যায়।

জন স্টুয়ার্ট মিল গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য কী কী শর্তের কথা বলেছেন ?

উ. মিল গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য গণতন্ত্রকে গ্রহণ করার ইচ্ছা ও সামর্থ্য থাকা, জনগণের সদা সতর্ক থাকা, নিজ নিজ কর্তব্য পালন করা ও অধিকার রক্ষা করার ইচ্ছা ও সামর্থ্য থাকার কথা বলেছেন।

ব্যক্তিগত একনায়কতন্ত্র কাকে বলে ?

উ. যখন একজন ব্যক্তি বা নেতার হাতে দেশের যাবতীয় ক্ষমতা চূড়ান্তভাবে কেন্দ্রীভূত থাকে, তখন তাকে ব্যক্তিগত একনায়কতন্ত্র বলে।

একনায়কতন্ত্রের একটি অসুবিধা বা দোষ উল্লেখ করো।

উ. একনায়কতন্ত্রের একটি অসুবিধা বা দোষ হল একনায়কতন্ত্রে ব্যক্তিস্বাধীনতা থাকে না।

একনায়কতন্ত্রের পক্ষে একটি যুক্তি দাও।

উ. একনায়কতন্ত্রের পক্ষে একটি যুক্তি হল একনায়কতন্ত্র জরুরি অবস্থার পক্ষে উপযুক্ত।

দলগত একনায়কতন্ত্রের অর্থ কী ?

উ. যখন একটিমাত্র দলের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীভূত থাকে এবং সেই দল ছাড়া ওই দেশে অন্য কোনো দলের অস্তিত্ব থাকে না, তখন তাকে দলগত একনায়কতন্ত্র বলা হয়।

গণতন্ত্র বলতে লর্ড ব্রাইস কী বুঝিয়েছেন ?

উ. গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় শাসন ক্ষমতা দেশের সকলের হাতে অর্পিত থাকলেও কার্যত তা সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসনে পর্যবসিত হয়।

গণতন্ত্র সম্পর্কে সমাজতন্ত্রবাদীদের অভিমত কী ?

উ. গণতন্ত্র সম্পর্কে সমাজতন্ত্রবাদীদের অভিমত হল অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত না হলে প্রকৃত গণতান্ত্রিক সমাজ গঠন করা কখনোই সম্ভব নয়।

গণতন্ত্র সম্পর্কে সিলির অভিমত কী ?

উ. রাষ্ট্রবিজ্ঞানী সিলির মতে, গণতন্ত্র হল সেই শাসনব্যবস্থা যাতে প্রত্যেকের অংশগ্রহণ করার অধিকার আছে।

গণতন্ত্র সম্পর্কে ডাইসি কী বলেছেন ?

উ. গণতন্ত্র সম্পর্কে ডাইসি বলেছেন যে শাসনব্যবস্থায় তুলনামূলকভাবে জনসংখ্যার একটি গরিষ্ঠ অংশের হাতে শাসনক্ষমতা অর্পিত থাকে। তা-ই হল গণতন্ত্র।

Leave a Reply